বদলগাছীর ছোট যমুনায় চলছে হাউরি দিয়ে মাছ ধরার মহোৎসব!

খালিদ হোসেন মিলু, বদলগাছী (নওগাঁ): গ্রাাম বাংলার খাল-বিল ও নদী নালার পানি কমতে শুরু করেছে। পানিতে টান পড়েছে মাছ ধরার এখনই সময়। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ফসলি মাঠগুলো এখনো হয়ে উঠেনি আবাদের উপযোগী । ফলে এ অঞ্চলের কৃষকের হাতে নেই তেমন কাজ। এ অবসরে অল্প পানিতে মাছ শিকারের মহোৎসবে মেতে উঠেছেন সবাই।খাল-বিল, নদী-নালা ও ডোবাতে এখন স্বল্প পানি। এলাকায় এখন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

দলবদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে আবার কোথায় পলো দিয়ে মাছ ধরা। দিনে রাতে সুত বড়শি দিয়ে নদী থেকে ধরা হচ্ছে বোয়াল মাছ। বড়শিতে খাবার দিয়ে ফেলা হয় নদীর পানিতে। রাতে আলো জ্বালিয়ে নদীর পাড়ে সুত বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। তবে সুত বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ছোট ডোবায় গ্রামের মানুষরা পানি শুকিয়ে মাছ ধরছেন। মাথা ও কোমরে আটসাট করে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরছেন সবাই। শখের বসে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে নেমেছেন মাছ ধরতে। সকাল থেকেই শুরু হয় তাদের এই মাছ ধরা। চলে বিকেল পর্যন্ত। দলবেধে সারিবদ্ধ হয়ে পলো দিয়ে শোইল, টাকি ও বোয়াল মাছ ধরছেন। পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য সবারই মনকাড়ে।

নদীর স্বল্প পানিতে ১০০ শত জনের একটি দল একদিকে পলো নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর অপরপ্রান্ত থেকেও ১০০জনের সারি বদ্ধ দল পলো চাপিয়ে মাছ ধরতে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন।কবে কোথায় মাছ ধরা হবে উপজেলার হাট ও বাজারে আগের দিন মাইকিং করে প্রচার করা হয়। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে জেনে নেন। অনেকে ৬-৭ কিলোমিটার হেটে আবার অনেকে ১০-১২কিলোমিটার দূর থেকে ভটভটি নিয়ে আসেন। সোমবার উপজেলার উপজেলার বদলগাছী ছোট যমুনা নদীতে দেখা মেলে পলো দিয়ে মাছ ধরার এমনই দৃশ্য।উপজেলার আধাইপুর থেকে মাছ ধরতে আসা বিকাশ বলেন, ১০ কিলোমিটার দূর থেকে সকালে ভটভটি করে প্রায় ১০০ জন এই নদীতে চাবি জাল দিয়ে মাছ ধরতে এসেছেন। সারাদিনে ছোট একটি বোয়াল মাছ পেয়েছেন। এখন আর আগের মতো বড় মাছ পাওয়া যায় না। তবুও এভাবে মাছ ধরতে আনন্দ লাগে।

কোলারপালসা গ্রাম থেকে আসা এমদাদুল বলেন, সপ্তাহে দু’তিন দিন করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমরা পলো দিয়ে মাছ ধরছি। আমরা প্রায় ২শতাধিক মানুষ এসেছি মাছ ধরার জন্য। প্রতিবছরই এই সময় এ অঞ্চলের মানুষ পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠি। আমরা দেড় কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ পেয়েছি।

গ্রাম বাংলার এই চিরচেনা হাউরি দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য আগের মত আর চোখে পড়েনা। আমরা এই ঐতিহ্যবাহী হাউরি দিয়ে মাছ ধরার ঐতিহ্যটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।

অবসর সময়ে সুযোগ পেলেই আমরা দল বেঁধে সবাই নদীতে হাউরি দিয়ে মাছ ধরার উল্লাসে মেতে উঠি।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...