বাংলাদেশে ইন্টারনেট : বিএনপি-ই পাইওনিয়ার

মারুফ কামাল খানঃ বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট চালু হয় কখন?

১৯৯৩ সালে বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম বা বিবিএস পদ্ধতিতে ডায়াল-আপ-এর সাহায্যে ই-মেইল ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। অফলাইন ই-মেইলের মাধ্যমে এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার প্রথম শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। দু’টো যুগান্তকারী ঘটনাই ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের আমলে।তবে এই সুযোগ খুব সীমিত থাকায় ইন্টারনেটের জন্য ভিস্যাট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিএনপি সরকারই সেই উদ্যোগ গ্রহন করে। ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে সরকার ভিস্যাট ড্যাটা সার্কিট সাবস্ক্রাইব করার জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করে। এ প্রক্রিয়া চলাকালেই জাতীয় নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার দায়িত্ব নেয়। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু’-তিন জন উপদেষ্টার বিশেষ আগ্রহ ও তাগিদে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৪ঠা জুন দেশে প্রথম ভিস্যাট বেজ ডাটা সার্ভিস কমিশনড করা হয়। সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় ইন্টারনেট সার্ভিস। ইন্টারনেট কানেকশন স্থাপনের পর ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে প্রচার করা হয়। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগও চালু হয়।

★ বাংলাদেশ কখন ফাইবার অপটিক সাবমেরিন ক্যাবলের সংগে যুক্ত হয়?
২০০৬ সালে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এই বিশাল যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করে। এর ফলে যোগাযোগ প্রযুক্তির মহাসড়কে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ও গতিবেগ সঞ্চারিত হয় এবং ব্যয় কমে ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য হয়। বিএনপি নামের দলটি যে কিভাবে প্রতিপক্ষের মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হয়, এক্ষেত্রে তার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ আছে। বাংলাদেশে ইন্টারনেট খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলে সীমিত আকারে চালু হয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি বিরোধীদলে যায়। তারপর ৫ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে আবার দায়িত্বে এসে খালেদা জিয়ার সরকারই সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক সুপার হাইওয়েতে ওঠার প্রকল্প গ্রহন করে। সফলভাবে এ প্রকল্প সম্পন্ন করে কক্সবাজারে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে এক নবযুগের সূচনা হয়। বিএনপি সরকারের এই সাফল্য এবং নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতেই প্রতিপক্ষ কল্পিত অভিযোগ এনে প্রচারণা শুরু করে। তারা বলতে থাকে, এতদিনে কেন? অনেক আগেই করা উচিত ছিল। আগে সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ফ্রি যুক্ত হবার অফার বিএনপি সরকার নেয়নি তথ্য পাচারের অজুহাতে। এতে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে।

এরা একজন একটা কথা বললে সবাই তাতে কোরাস ধরে। তথ্য প্রমান বা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেনা। বিএনপি সরকারের ইন্টারনেট চালু, ফাইবার অপটিক সাবমেরিন ক্যাবলের সংগে বাংলাদেশকে যুক্ত করার সাফল্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ অপরাজনৈতিক কৌশলে তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, আগে কেন করেনি ফ্রি পেয়েও এই মিথ্যা অভিযোগ তুলে। অথচ তারা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলেও কেন এসব করেনি সে প্রশ্ন কেউ করেনি। সাবমেরিন ক্যাবলের সংগে সংযুক্তি বিপুল ব্যয়বহুল একটা প্রকল্প। এটা কি কেউ ফ্রি করে দেয়? আর কোনো দেশকে কি এমন ফ্রি করে দিয়েছে কেউ? তাহলে কেবল খালেদা জিয়ার সরকারকে ফ্রি করে দেয়ার প্রস্তাব কেন করা হয়েছিল? কারা করেছিল? এমন আজগুবি প্রচারণাও কেউ কেউ কোনো তথ্য প্রমান ছাড়াই বিশ্বাস করেছে। শিক্ষিত নামধারী কিছু লোকও আবার এই মিথ্যাচার প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে।

★ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে পৃথক মন্ত্রনালয় কে সৃষ্টি করেন?
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াই বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের স্রষ্টা। ২০০২ সালে তাঁর সরকারই আইসিটি পলিসি প্রণয়ন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে। কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্ক স্থাপনের প্রকল্পও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারই হাতে নিয়েছিল। বাংলাদেশে তাঁর আগে কেউ এমন উদ্যোগের কথা কল্পনাও করেনি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো এমন বহু উদ্যোগ বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকার নিয়েছে। আমি শুধু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর কথা বললাম। খালেদা জিয়া প্রমান করেছেন অন্য সকলের ক্ষেত্রের মতন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সূচনাও এদেশে বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে।

লেখক:সাংবাদিক, কলামিষ্ট।


আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন