বিষাক্ত মদ পানে ৮১ জনের মৃত্যু, মাদক বিক্রেতার মৃত্যুদণ্ড

২৪ বছর আগে গাইবান্ধায় বিষাক্ত মদ পানে ৮১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মাদক বিক্রেতা রবিন্দ্রনাথ সরকার ওরফে রবির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবুল মনসুর মিয়া আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৯৯৮ সালের পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের রাতে গাইবান্ধায় মদ পানে ফুর্তিতে মেতে ওঠেন অনেকেই। তারা সকলেই রবিন্দ্রনাথ সরকারের স্টেশন রোডস্থ ন্যাশনাল হোমিও হল থেকে রেকটিফায়েড স্পিরিট কিনে সেবন করেন। অতিরিক্ত লাভের আশায় রবিন্দ্রনাথ সরকার দোকানে এবং বাড়িতে মজুত বিষাক্ত মিথানল মিশ্রিত রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি করেন। এই বিষাক্ত স্পিরিট খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের গাইবান্ধা জেলারেল হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় কাবলু , ডাবলু, সুমিতারানী, ললিত রানী, কান্তি ও মিলনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালে ও গোপনে আরও অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও বিষাক্ত মদ পানে আরও অনেকেই চিরদিনের মতো অন্ধত্ব বরণ করেন।

এ ব্যাপারে রবিদাস সম্প্রদায়ের সর্দ্দার মুন্নী বাঁশফোর বাদী হয়ে ১৯৯৮ সালের ১৬ এপ্রিল গাইবান্ধা থানায় মামলা করেন । মামলার পরপরই মাদক ব্যবসায়ী রবিন্দ্রনাথ বাড়িতে স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যান। পরে তদন্ত শেষে রবিন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তৎকালীন গাইবান্ধা সিআইডির পরিদর্শক আবেদ আলী। দীর্ঘদিনের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাদক বিক্রেতা রবিন্দ্রনাথ সরকার ওরফে রবির মৃত্যুদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন...