বেগমগঞ্জে মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণে ধীরগতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণে ধীরগতির কারণে ঝুঁকিপূর্ন ভবনের পাঠদান করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে যে কোন সময় দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে নতুন ভবন দ্রুত নির্মাণ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার দাবীতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা ও এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। অথচ কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর ওই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে মাদ্রাসার শ্রেণী পাঠদান। মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্ড সন্স। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক কাজী হেলাল উদ্দিন ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে কাজ শুরু করে আঠারো মাসের মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ চলছে ধীর গতিতে। এ কারণে কার্যাদেশের মেয়াদ প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ভবনের নির্মাণ কাজ। এক বছর ধরে ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষের অভাবে পাঠদান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। এই মাদ্রাসায় প্রায় ৮’শ শিক্ষার্থী রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে ঠিকাদারের কোনো শ্রমিককেও এখন আর আসেনা। পাশের একটি ভবনের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসার অধক্ষ ছেরাজল হক ভূঁঞা জানান, ভবনের কাজ শেষ করতে প্রকৌশল অফিসে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদার আজ করবো কাল করবো বলে অনেক দিন ফেরিয়ে গেছে। আমাদের দ্রুত ভবন দরকার, কারণ এখনে বিভিন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ন।

নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্ড সন্স এর মালিক কাজী হেলাল উদ্দিন জানান, আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। আমরা বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি শেষ করতে পারছিনা।
নোয়াখালী জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপংকর খীসা জানান, করোনার কারণে আমরা অনেক কিছুতে পিছিয়ে গেছি, আমাদের আপাতত এ খাতে কোন বরাদ্দ নেই, বরাদ্দ পেলে দ্রুত মাদ্রাসা ভবনটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

আরও পড়ুন...