ব্রিজের মালামাল বিক্রি, আ’লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান আটক

পিবিএ,পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে লোহার ব্রিজের বিক্রি করা মালামালসহ মো. বেলায়েত হোসেন বুলু নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৯ মে) উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।বেলায়েত হোসেন বুলু ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অনিত হাসান জানান, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন বুলু ওই ইউনিয়নের তারাবুনিয়া বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ থাকা ব্রিজের ভিমসহ বিভিন্ন লোহার মালামাল বিক্রি করে দেন। পরে ক্রেতা নসিমনে করে ওই সব মালমাল নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা উপজেলার ভাইজোড়া বাজার থেকে নসিমনসহ তাকে আটক করেন। এ সময় চেয়ারম্যান ওই মালামাল ছাড়িয়ে নিতে সেখানে গেলে স্থানীয় জনতা তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই সব চোরাই মালামাল ও তা বহন করা নছিমনসহ এর ক্রেতা মো. ইস্রাফিল ইসলাম শেখকে (২৩) আটক করা হয়।

ক্রেতা ইস্রাফিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গহরডাঙ্গা এলাকার মৃত সিরাজ শেখের ছেলে। তিনি টুঙ্গিপাড়া এলাকায় পুরাতন লোহার ব্যবসা করেন।

তিনি জানান, চেয়ারম্যান ওই দিন সকালে তার কাছে ৮৮০ কেজি লোহার মালামাল ২২ টাকা দরে ১৯ হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই দিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবিতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই ইউনিয়নের মধ্যবানিয়ারীর অজয় মণ্ডলের বাড়ির কাছে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে থাকা আগের ব্রিজের লোহার মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে এনে রাখা হয়েছিলো।ওই চেয়ারম্যান এর আগেও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের আয়রন ব্রিজের মালামাল গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন।

ওই ব্রিজের ঠিকাদারী কাজের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম বিলু জানান, ওই ইউনিয়নের মধ্যবানিয়ারী গ্রামের অজয় মণ্ডলের বাড়ির কাছে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজের ঠিকাদারি করছি।কাজ শুরুর আগে সেখনে থাকা একটি ব্রিজের লোহার মালামাল ওই ইউপির চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। ওই মালামাল চেয়ারম্যান গোপনে বিক্রি করেছেন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন বুলু জানান, ওই লোহার মালামাল বিক্রি করা হয়নি। ওই দিন তা মেরামতের জন্য গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পাঠানো হচ্ছিলো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ওই মালামালসহ ইউপি চেয়ারম্যানকে আটকের খবর শুনে উপজেলা প্রকৌশলীসহ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে একটি নসিমনে ভর্তি লোহার মালামাল উদ্ধার ও তার ক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পিবিএ/এমআর

আরও পড়ুন...