পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে ভয়ভীতি প্রদর্শন

ভূরুঙ্গামারীতে এনজিও চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ

পিবিএ,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম): ভূরুঙ্গামারীর বকুলতলী মহিলা সংস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে উল্টো তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করাসহ নানা ধরনের হুমকী প্রদর্শনের অভিযোগে পদত্যাগী নির্বাহী পরিচালক এনজিওটির চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন।

বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নে অবস্থিত বকুলতলী মহিলা সংস্থা (বিএমএস) নামে একটি সংস্থা গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের লক্ষ্যে দাতা সংস্থা ‘টু গেদার মেকিং এ ডিফারেন্স-ইউকে’ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি নামার ফলে সংস্থাটি ১৭ ফেব্রুয়ারী-২০১৯ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন পায়। যার নিবন্ধন নং ৩১৯০। এনজিওটি নিবন্ধন পাওয়ার আগে উক্ত সংস্থার মাধ্যমে ব্র্যাকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ইএসপি শিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা থাকায় আব্দুল হককে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে নামমাত্র নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন ও তার স্বামী ফজলুল হক প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সেজে বিধি বহির্ভূত দাতা সংস্থার সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। এরপর সংস্থাটি চুক্তি অনুযায়ী দাতা সংস্থার কাছ থেকে ব্যাংক মারফত ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন সময় মানিগ্রামের মাধ্যমে আরো ১০ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৬ টাকা গ্রহণ করে। এছাড়াও প্রকল্প শুরুর আগে তিনজন শিক্ষকের বেতন বাবদ মানিগ্রামের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা সহ সর্বমোট প্রায় ২৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে। প্রকল্প বাবদ এতো টাকা বরাদ্দ থাকলেও কমিটির সদস্যদের তা অবগত না করে স্বামী-স্ত্রী মিলে দায়সারা ভাবে নির্মাণ কাজ সম্পাদন করেন। উল্লেখ্য এনজিও ব্যুরো ১৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা প্রকল্পে ব্যয়ের অনুমোদন দিলেও বিধি বহির্ভুত ভাবে ২৮ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং শুধু মাত্র ব্যাংকে আসা ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অডিট সম্পাদন করা হয়। দাতা সংস্থা টিএমএডিকে চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সোলার প্যানেল, স্টিল আলমিরা, টিচার্স টেবিল, চেয়ার ও ল্যাপটপসহ আরো ১০ প্রকারের জিনিস কেনা হয়নি। পরে অভিযোগ দায়েরের পর নি¤œমানের সামগ্রী ক্রয় করে দায় এড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের বেতন ৫ হাজারের স্থলে ২ হাজার ১৫০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের ইউনিফর্ম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দাতা সংস্থা টিএমএডি-কে দেখানোর জন্য আলাদাভাবে তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করলেও সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন, তার মেয়ে ফেলেমি খাতুন ও বড় জা শেফালী খাতুনকে শিক্ষক দেখিয়ে গোপনে বিদ্যালয়টি সরকারী করণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ আসতে পারে মর্মে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক গত ২ মার্চ ২০২০ তারিখে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন পত্র দাখিল করেন। কিন্ত সংস্থার চেয়ারম্যান অব্যাহতি পত্র গ্রহণ না করে নির্বাহী পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে নির্বাহী পরিচালক গত ৮ জুলাই এড. মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে সংস্থার চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। বিএমএস মডেল প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন, লিপি খাতুন ও রুমানা খাতুন জানান, তাঁরা বেতন বাবদ ২ হাজার ১৫০ টাকা পান। এ ব্যাপারে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বিউটি খাতুনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার স্বামী প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফজলুল হক জানান, নির্বাহী পরিচালক দুই স্থানে চাকুরী করে, অর্থের অনিয়ম হলে সে দায় নির্বাহী পরিচালকের। তিনি দাবি করেন তার পছন্দের একজন শিক্ষিকা নিয়োগ না দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পদত্যাগী নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক জানান, আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করায় এবং মামলার ভয়ভীতি দেখানোয় উকিলের মধ্যস্থতায় লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছি।

পিবিএ/শামসুজ্জোহা সুজন/এইচএস

আরও পড়ুন...