ভূরুঙ্গামারীতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

পিবিএ,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম): আগাম ভারি বর্ষণে ভূরুঙ্গামারীর শতশত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দিনের পর দিন অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে পাকা ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। এতে বৃষ্টির পানিতে ভেসে যেতে বসেছে কৃষকের স্বপ্ন।
ভূরুঙ্গামারীতে গত ২০মে বুধবার থেকে দমকা হাওয়ার সাথে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকার শতশত বিঘা জমির বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে কৃষককে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অপরদিকে এক সপ্তাহ যাবত পর্যাপ্ত রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান শুকাতে না পারায় সেগুলোতে চারা গজাতে শুরু করেছে।
পাইকের ছড়া ইউনিয়নের ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক খলিল, হাছেন ও ইসরাফিল এবং চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল জানান, জমির ধান সব পাকা শেষ, এক-দুই দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে এরই মধ্যে শুরু হলো বৃষ্টি। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাকা ধানের প্রায় পুরোটাই দুধকুমার নদের পানিতে তলিয়ে গেছে। শীষের নীচের অংশে পচন ধরেছে। ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের কৃষক আঃ হামিদ গত রোববার পানিতে তলিয়ে যাওযা দুই বিঘা জমির ধান কাটেন। বৃষ্টি কারণে তিনি ধান মাড়াই করতে পারেননি। ধানের আটিগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের অপর কৃষক মন্টু মিয়ার ধান ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় শীষেই ধানের চারা গজাতে শুরু করেছে।
উপজেলার প্রায় ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে । সর্বত্রই ধান নিয়ে কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝে উৎকন্ঠার বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১৫ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও ৪১৯ হেক্টর বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অধিক উৎপাদনের আশা উপজেলা কৃষি অফিসের। তবে সাত দিনের বৃষ্টিপাত লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, প্রায় ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। প্রকৃতির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। যে সমস্ত জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সেগুলো পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত কেটে ফেলতে হবে।

পিবিএ/শামসুজ্জোহা সুজন/এমআর

আরও পড়ুন...