মানবতার সেবায় মানুষের দোরগোড়ায় ‘বিবিএস’….

“আর্তের মুখে হাসি ফুটানো যদি হয় মানবতা তবে তার শ্রেষ্ঠ সেবক হলো প্রতিটি রক্তদাতা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে একদল তরুণ তরুণী বন্ধুদের উদ্যোগে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর “ব্রহ্মপুত্র ব্লাড কল্যাণ সোসাইটি (বিবিএস)” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের পাশে থেকে সুনামের সাথে এগিয়ে চলেছে ময়মনসিংহের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের এই সংঘটনটি।

শুরুতে অসহায় রোগীদের রক্তদান এবং রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে কাজ শুরু করে সংঘটনটি। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বিনামূল্যে রক্তদান ক্যাম্পেইন, প্রতিবছর সর্বোচ্চ রক্তদাতা সম্মাননা , মাসিক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যকথা’, ক্যান্সার প্রতিরােধ বিষয়ক কর্মশালা, শীতবস্ত্র বিতরণ, থ্যালাসেমিয়া ও যক্ষ্মা দিবসে সচেতনামূলক সেমিনারের আয়ােজনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করে আসছে সংগঠনটি ।

ময়মনসিংহ জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের রক্তের চাহিদা মেটাতে সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে প্রায় ৫০০ সদস্য রয়েছে সংঘটটিতে যারা প্রতিনিয়ত রক্তদানের পাশা-পাশি রক্ত সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছে। করোনাকালীন এই সময়েও একহাজার ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে দিয়েছেন “ব্রহ্মপুত্র ব্লাড কল্যাণ সোসাইটি (বিবিএস) ” এর রক্তযোদ্ধারা এক্ষেত্রে অনলাইন প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়েছেন তারা। এপর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার মানুষকে প্রায় সাত হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছে সংগঠনটি।

‘এক ব্যাগ রক্ত কারো হাতে তুলে দেওয়ার পর সে মানুষটির মুখে যে কৃতজ্ঞতা আর পরিতৃপ্তির ছাপ দেখা যায়, তা অকৃত্রিম। এ পরম সহানুভূতির জন্যই আমি সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হই। যতদিন বেঁচে আছি, সুস্থ আছি ইনশাআল্লাহ এভাবেই জীবনের বাকিটা সময় সংগঠনের জন্য কাজ করে যাবো।’ এভাবেই সংগঠনের প্রতি নিজের ভালো লাগা আর ভালোবাসার কথা বলছিলেন সংগঠনের দু’বার সর্বোচ্চ রক্ত সংগ্রহকারী সদস্য আবু সাইদ রিমন। সংগঠনের আরেক সদস্য নূর আলম পারভেজ বলেন ‘ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো মানুষের জন্য কিছু করার, মানুষের পাশে দাড়ানোর সেই স্বপ্নেরই অংশ বলতে পারেন এই সংগঠন। সত্যি বলতে আমাদের সংগঠনের সকল সদস্য একটি পরিবারের মতো। এখানে সবাই সবার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাড়ানোর।’।

সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান জানান ‘ ব্রহ্মপুত্র ব্লাড কল্যাণ সোসাইটি, (বিবিএস) এমন একটি সংগঠন যার কার্যক্রম স্থবির হবার কোনাে সুযােগ নেই। করোনার লকডাউনেও আমাদের কার্যক্রম চলমান ছিলো। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষের পাশে দাড়ানোর। সংগঠনের সদস্য যারা আছে সবাই খুবই আন্তরিক নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়া চেষ্টা করে। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এটা দেখে আমার খুবই ভালো লাগে। যদি বলেন এই সংগঠন নিয়ে আমার সপ্ন কি?
আমি এক কথায় বলবো যতদিন বেঁচে আছি মানুষের সেবায়, মানুষের পাশে দেখতে চাই সংগঠনটাকে।

ইমরান হোসাইন,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন...