মানুষের সহযোগিতাই মুন্নীর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে

পিবিএ ডেস্ক: আফরোজা মুন্নী একজন তরুণ উদীয়মান লেখিকা। অমর একুশের বইমেলায় এ পর্যন্ত চারটি বই বের হয়েছে তাঁর। ২০১৬ সালে উপন্যাস ‘ধূসর কন্যা’ (প্রথম খণ্ড), ২০১৭ সালে ‘ধূসর কন্যা’ (দ্বিতীয় খণ্ড)। ২০১৮ সালে প্রবন্ধ ‘ছিটমহলের দিনগুলি’ এবং ২০১৯ সালে গল্পসমগ্র ‘জল ছবিতে আঁকা’ প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো যারাই পড়েছে তারাই বলেছে বইগুলো শিক্ষামূলক, অনেকের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খোড়াক। ছিটমহল বইটি নিয়ে আফরোজা মুন্নী একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মাণেরও স্বপ্ন দেখেন। নিয়মিত লেখালেখিও চালিয়ে নিতে চান তিনি, যেতে চান বহুদূর। কিন্তু তাঁর এই স্বপ্ন ও সম্ভাবনা কুরে কুরে খাচ্ছে মস্তিষ্কের মরণব্যাধি।

গত সাত বছর ধরেই ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তিনি। নিজের চেষ্টায়  লড়ে যাচ্ছেন এত বছর ধরে। কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি এখন সর্বস্বান্ত। উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহনের কোনো সংগতি না থাকায় অসহায় লেখিকা মানবিক মানুষের কাছে সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়েছেন। আরো কিছুকাল বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছেন।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শির্ষা গ্রামে ১৯৮২ সালে ২৭ মে এক সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আফরোজা মুন্নী। বাবা আমির হোসেন ছিলেন পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। চার ভাই-বোনের মধে মুন্নী সবার বড়। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর পরিচালক এবং নজরুল-প্রমিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে সাহিত্যে স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পদক লাভ করেছেন।

২০১২ সালে তিনি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হন। ওই বছর মে মাসে তাঁর ব্রেইন টিউমারের (পিটিউইটারি ম্যাকরোএডেনোমা) অপারেশন হয়। ২০১৪ সালে রেডিও থেরাপি দেওয়া হয় তাঁকে। ২০১৭ সালে তাঁর ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে স্যানডোসট্যাটিন লার ‘২০ এমজি’ ইনজেকশন নিতে হয়। কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতায় এ চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়।

আফরোজা মুন্নী জানান, ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে ভর্তি হয়ে জানতে পারেন নতুন করে টিউমারের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আবারও এর চিকিৎসা খরচ চালিয়ে নেওয়া যা তাঁর পক্ষে আর  সম্ভব নয়। মানুষের সহযোগিতাই এখন তাঁর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

বাঁচার আকুতি জানিয়ে আফরোজা মুন্নী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক বই পড়েন। আমার ভীষণ ইচ্ছা করে আমার লেখা বইগুলো তাঁকে নিজ হাতে উপহার দিতে। তিনি মানবতার নেত্রী,অনেক দয়ালু। সেই সঙ্গে তিনিও একজন লেখিকা। জানি না এ লেখাটি তাঁর চোখে পড়বে কি না! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে কেউ আমাকে একটু সাহায্য করবে কি না! আমি আমার বাঁচার আকুতি তাঁর কাছে পৌঁছাতে চাই।’

পিবিএ/জেআই

আরও পড়ুন...