মামলাবাজ ইব্রাহীম ও তাঁর চক্রের মিথ্যা মামলার কবলে নিরীহ জনগণ

মোঃ এমদাদ উল্যাহ,চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা): কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মামলাবাজ ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর চক্রের মিথ্যে মামলার কবলে নিরীহ জনগণ। মামলাবাজ ইব্রাহীম খলিলের মিথ্যে মামলার হাত থেকে বাদ যায়নি ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য লোকজনও। এই মামলাবাজ থেকে রক্ষা পেতে আদালত, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে হতাশ হয়ে পড়েছেন মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ভূক্তভোগী।

জানা যায়, উপজেলার রাজাপুর ফুলতলী গ্রামের হাজী আব্দুল গফুরের ছেলে ইব্রাহীম খলিল বেশ কিছুদিন ধরেই কারণে অকারণে একাধিক মানুষের নামে মিথ্যে মামলা সাজিয়ে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে এলাকায় মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তাঁর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের নালঘর গ্রামের প্রবাসী বদরুল মিয়া ও খোকন মিয়ার সাথে বিদেশে যাওয়ার নাম করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সাময়িক লেনদেন করেন ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর চক্রের সক্রিয় সদস্য চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া গ্রামের মৃত ফজর আলী মেম্বারের ছেলে আজাদ মিয়া। লেনদেনের সময় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নালঘর গ্রামের মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, রুহুল আমিন ভেন্ডার এবং একই গ্রামের ফরিদ মেম্বারসহ আরও দু-একজনকে স্বাক্ষী করে বিদেশ যাত্রার জন্য দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা লেনদেন করেন তারা। পরবর্তীতে একই বছরের ২ জুন চুক্তি অনুযায়ী আরব আমিরাতের ওমানে পৌঁছে। কিছুদিন কাজ করে পরিকল্পিত মতে পুণরায় ১৫ আগস্ট নিজ দেশে চলে আসে ইব্রাহীম খলিল। বাড়িতে আসার পর থেকেই প্রবাসী বদরুল মিয়া ও খোকন মিয়াসহ স্বাক্ষীদেরকে মামলার ভয় দেখিয়ে ইব্রাহীম খলিল মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় ২৮ আগস্ট প্রবাসী বদরুল ও খোকনসহ একাধিক স্বাক্ষীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন মামলাবাজ ইব্রাহীম খলিল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসী বদরুল মিয়া ও খোকন মিয়ার সাথে ইব্রাহীম খলিলের টাকা লেনদেনের সময় সরল মনে স্বাক্ষী হিসেবে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। চুক্তি অনুযায়ী ইব্রাহীম খলিল বিদেশ যাওয়ার পরেও এখন অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে না দেয়ায় উল্টো কুমিল্লা জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে। তারা আরও বলেন, মামলার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরদের নিয়ে বার বার মিমাংসা করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। এখন ন্যায় বিচারের দাবিতে মহামান্য আদালতের দারস্থ হয়েছি। তাই মামলাবাজ ইব্রাহীম খলিল ও তার সহযোগী আজাদ মিয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে ন্যায় বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহীম খলিলের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তাঁর সহযোগী একটি মামলার স্বাক্ষী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া গ্রামের আজাদ মিয়া সোমবার দুপুরে বলেন, ‘ইব্রাহীম খলিলকে ওমানে নেয়ার জন্য দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা লেনদেনের সময় স্বাক্ষী ছিলাম। প্রবাসী বদরুল মিয়া ও খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলার পর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে সে তথ্যই বলেছি। অন্য কিছু জানি না। তবে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি’।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...