মিথ্যা অভিযোগে বশেমুরবিপ্রবি’র আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পিবিএ,গোপালগঞ্জ: মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হলো গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) এর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং দ্যা ডেইলি সান এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম ফাতেমা তুজ জিনিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রসাশনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের সাথে প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ফেইসবুকে আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন । বুধবার (১১ ই সেপ্টেম্বর) বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তার সাময়িক বহিষ্কার আদেশ জানানো হয়। একইসঙ্গে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কোন বক্তব্য থাকলে তা লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়।

রেজিস্ট্রার কতৃক প্রেরিত বহিষ্কার আদেশে বহিষ্কারে কারন হিসেবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের সাথে প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি করা সহ ভাইস চ্যান্সেলর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করার হুমকি প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয় যা বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং উপরােক্ত বিষয় বিবেচনায় এনে সাময়িক একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে এ বিষয়ে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া “পিবিএ” কে জানান, ‘আমি কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কারও সাথে কোন ধরনের লেখালেখি করিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।

এদিকে আপত্তিকর কি লেখা হয়েছে অথবা উপাচার্যের ফেইসবুক আইডির হুমকি কোথায় কাকে দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কার প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে কিছুই বলতে পারেন নি এবং তার ভাষ্যমতে “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এইরূপ একটি নোটিশ প্রদানের জন্য আমাকে বলাতে তিনি উক্ত আমি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস বা হুমকি বিষয়ক কোন প্রমাণ বা ডকুমেন্ট তার কাছে নেই বলে জানা গেছে।

এছাড়া খামখিয়ালিভাবে একজন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিককে বহিষ্কার করে তার শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে ফেলা এবং শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশে বাঁধা দেয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও শৃংখলা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের সাথে মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিগত ছয়মাসে ২১ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে। শোকজ নোটিশপ্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে ফেসবুক স্টাটাসের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। এসকল শিক্ষার্থীরা দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাছ আলীকে নিয়ে ফেসবুকে স্টাটাস প্রদান করেছিলেন এবং বাকি ১৪ জনকে ধানের ন্যায্যমূল্য চেয়ে মানববন্ধন করায় নোটিশ প্রদান করা হয়। এছাড়া, এসময়ে এই ২১ জন শিক্ষার্থী ব্যতিত ৭ জন শিক্ষার্থীকে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে ছয়জন শ্রেণীকক্ষের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এবং একজন আক্কাস আলীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়াতে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার হন।

পিবিএ/এসকে/বিএইচ


আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন