মোটা অংকের ঘুষ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত

পিবিএ ঢাকা: দুটি কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নেয়া অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গত আট বছরে প্রায় ৮৮ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে অর্ধশত নিম্নমানের কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে উচ্চ আয় দেখানোর আইপিও অনুমোদন দেন খায়রুল হোসেন। তার বিনিময়ে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেন।

আরও বলা হয়, ওইসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের সূচক পতন শুরু করে। এছাড়া ওইসব কোম্পানির পূর্ববর্তী আয়ের রিপোর্টগুলো বানোয়াট বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযােগে জানা গেছে, আইপিও দেয়া কোম্পানি গুলোর মধ্যে ১০টি ইতোমধ্যে জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। এসব কোম্পানি তালিকাভুক্তির পর থেকে শেয়ার হোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি।এছাড়া তার সময়ে আরো ৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ফ্যাসভেলুর নীচে নেমে গেছে। যে কারেন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুই শেয়ার বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। খায়রুল দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ পাবার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি অর্থমন্ত্রী মুহিতকে উপেক্ষা করে এ্যাপোলো ইস্পাতকে শেয়ার বাজারে অর্ন্তভুক্ত করেন। একইসাথে ডিএসইর আপত্তি উপেক্ষা করে কপারটেক কোম্পানিকে অনুমোদন পাইয়ে দেন। এ দুটি কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একইসাথে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে অন্যখাতে সরিয়ে নেয়ার কারনে বাজার মন্দা জেকে বসেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এ নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে খায়রুলের পদত্যাগ দাবি করলেও অদৃশ্য কারনে তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, খায়রুলের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ কোটা টাকার দুর্নীতির অভিযোগ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বাড়িও কিনেছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরীকে অভিযোগ তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পিবিএ/জেডআই


আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন