যেখানে অপরাধ হবে সেখানেই যুবকদের নিয়ে প্রতিরোধ করব

পিবিএ,ঢাকা: বর্তমান সময়ে সবার প্রিয় মানুষটির নাম হলো হানিফ বাংলাদেশী। যিনি তার দক্ষতা গুনে মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। তিনি যুবকদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরী করেছেন। যার নাম দিয়েছেন বাংলাদেশ যুব শক্তি। তিনি এ সংগঠনের আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং শুক্রবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একক পদযাত্রা শুরু করেন হানিফ বাংলাদেশী। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে গিয়ে পদযাত্রা শেষে করেন হানিফ বাংলাদেশী। প্রায় ৮ টি জেলা তিনি পায়ে হেটে সফর করেন। সব জেলাতেই তাকে স্বাগত জানাই সংগঠনের নেতা কর্মীরা। তিনি তাদের এই ভালোবাসা পেয়ে খুব খুশি।

তিনি বলেন ,বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশি ও বন্ধুপ্রতীম দেশ। আমরা চাই ভারত প্রতিবেশির সাথে মানবিক আচরণ করুক। কিন্তু প্রতিনিয়তই ভারতের বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলছে। হতে পারে তারা গরু চোর-চোরাকারবারি, এদের আইনের আওতায় বিচার করা হোক। যখন যে দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তারা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্যে ভারতে তোষামোদী ছাড়া জনগণের জানমাল ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোন সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এই সরকারের ১২ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূখন্ডের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৫০০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। গত ১৯৯৬ সাল থেকে ২৫ বছরে ১২৬৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। শাসক দলগুলোর দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার হীনস্বার্থে ভারত তোষণ নীতির কারণে বিএসএফ ধারাবাহিক হত্যাকা- চালিয়ে যেতে পারছে। অথচ আমরা দেখেছি অপেক্ষাকৃত ছোটদেশ নেপালের একজন নাগরিককে হত্যা করার পর নেপালের জনগণ ও সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল ভারত।”

তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, অবিলম্বে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে। বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিবেশীর সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।” আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কথা বললে হাত পা ভাঙ্গা হয় আর ভারতের বিপক্ষে কথা বললে গুম হতে হয় এটা আর কত দিন চলবে। যেখানেই অপরাধ হবে সেখানেই যুবকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম হানিফ বাংলাদেশী পদযাত্রার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ফেলানীর হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারকে সচেষ্ট হওয়া আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ যুব শক্তি সকল যুবকদের একজায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্লাটফর্ম। ১৮ টি জেলায় এই সংগঠনের কমিটি করা হয়েছে আরো অনেক জায়গায় কাজ চলছে। এর আগে ১৭ টি জেলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে একসাথে অবস্থান কর্মসূচি করেন। এর আগেও ভোটাধিকারের দাবিতে টেকনাফ থেকে তেতুলিযা পদযাত্রা করেছে, দুনিতির বিরুদ্ধে ৬৪ জেলার ডিসিক স্বারক লিপি দিয়েছে,নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে পঁচা আপেল নিয়ে প্রতিবাদ করেছে যুব শক্তি ,এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বারকলিপি দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন হানিফ বাংলাদেশী।

পিবিএ/মারুফ সরকার/এমএসএম

আরও পড়ুন...