রাজধানীতে উড়াল সড়ক নয় যেন খাল!

পিবিএ,ঢাকা: সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর সড়কগুলোর মতো বেশিরভাগ ফ্লাইওভারেও (উড়াল সড়ক) পানি জমে খালে পরিণত হয়।পানি নামার পাইপগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমে থাকছে পানি। ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। এসব দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবহেলা চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে কথা বলবেন। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক এবং খিলগাঁও ফ্লাইওভার সরেজমিনে গেলে এ চিত্র দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকালে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এই সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর কোন কোন সড়কে পানি না জমলেও ব্যস্ততম মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার এবং খিলগাঁও-শাহজাহানপুর ফ্লাইওভারে পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যহত হতে দেখা যায়। গতি কমিয়ে চালানোর কারণে ফ্লাইওভারে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ অবস্থা শুধু আজকেই নয়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এ পানি সরতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। স্থানীয়রা জানান, ফ্লাইওভার থেকে পানি সরে যাওয়ার জন্য যে পাইপ স্থাপন করা রয়েছে, তা ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর রোদেই শুকিয়ে যায় এ আটকে থাকা পানি। এতে করে ফ্লাইওভারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তারা।

অথচ এই ফ্লাইওভারগুলো সম্পূর্ণই দেখভাল করার দায়িত্ব রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের। বিশেষ করে মগবাজার-মৌচাক এবং খিলগাঁও-শাহজাহানপুর ফ্লাইওভারটির দায়িত্ব ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অবহেলা এখন চরমে পৌঁছেছে। ফ্লাইওভারে পানি জমে থাকার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনাও জমে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ দিন ধরে পরিষ্কার না করায় বৃষ্টি হলে ময়লা-আবর্জনা গিয়ে পানি নিষ্কাশনের পাইপগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খালে পরিণত হয় এই দুটি ফ্লাইওভার। আর ব্যহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল। শুধু তাই নয়, অবকাঠামোগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এই ফ্লাইওভার।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম ফ্লাইওভারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দৈনিক জাগরণকে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমি রোববারই কথা বলবো দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে। এটা খুব বড় সমস্যা নয়। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোন কর্মকর্তাকে মোবাইলফোনে পাওয়া যায়নি।

পিবিএ/বিএইচ

আরও পড়ুন...