বিয়ের কথা বলে পালিয়ে গেল প্রেমিক

রাতে দেখা করতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেল প্রেমিক-প্রেমিকা

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর: আপত্তিকর অবস্থায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে হাজরাবাড়ী অনার্স কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন রনিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। গত রবিবার (২৯ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের বংশী বেলতৈল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মেয়েটি রনির বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হাজরাবাড়ী অনার্স কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন রনির সাথে মেলান্দহের মালঞ্চ মহিলা মাদরাসার একাদশ শ্রেনির এক ছাত্রীর সাথে ৪বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।

রবিবার রাত ২টায় দেলোয়ার হোসেন রনি বংশী বেলতৈল এলাকায় ঐ ছাত্রীর বাড়ির কাছেই একটি বাগানে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দুইজনকে স্থানীয় কয়েকজন হাতেনাতে ধরে ফেলে। ছেলের পরিবার বিয়ের কথা বলে মেয়ের আত্নীয় বাড়ি থেকে রনিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রী জানায়, আমার সাথে রনির ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে আমরা কাছে যাওয়া আসা করি। গতরাতে আমার সাথে প্রতিদিনের মতোই ফোনে কথা হয়। কথার এক পর্যায়ে সে আমাকে বাগানে দেখা করতে বলে। আমি তার সাথে দেখা করতে গেলে বাড়ির পাশের গরুর খামার মালিক মিয়ন ও তার সাথে কয়েকজন আমাদের দুজনকে ধরে ফেলে।

মেয়েটির বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের আটক করার পর দুজনকে ধরে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ছেলের বাবাকে খবর দিলে রনির পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে আসেন। রনির বাবা ফজলু মিয়া জানতে পেরে বিয়ের কথা বলে তাদেরকে ঘোষেরপাড়া বাংলাবাজার এলাকায় এক আত্নীয়ের বাড়িতে তাদের বিয়ের প্রস্তুতি করেন। এসময় আত্নীয়ের বাড়ি থেকে রনি সুযোগ পেয়ে পালিয়ে যায়। আমার মেয়ে এখন রনির বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্তান করছে।

গরু খামারি মিয়ন বলেন, আমি রাতে গরু পাহারা দেই। গভীর রাতে মানুষের সাড়া শব্দ পেয়ে বাহিরে বের হই। বাড়ির পাশে ব্রীজে দুইজনকে দেখতে পায়। পরে বাগান দিকে লক্ষ করলে আরও দুইজনকে দেখতে পায়। বাড়ির আরও লোকজন নিয়ে আমরা ওদের ধরে ফেলি।
এবিষয়ে রনির মা জানায়, আমার ছেলে সারাদিন ইউটিউবের ভিড়িও নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাদের ঘরের কাজ চলতাছে। তারজন্য রনি বেলতৈল বাজারে একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকে।

আমার ছেলে এই কাজ করছে বলে আমার মনে হয় না। এর পিছনে কারও ষড়র্ন্ত রয়েছে।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি মীমাংশা করার চেষ্টা করলে ছেলের পক্ষ মীমাংশা হয়নি। তাছাড়া আমার আর কি করণীয়। তারা এখন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

এবিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম জানায়, এবিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নিব।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...