রাবিতে হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

 

বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আকরাম হোসেন ,পিবিএ, রাবি: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে (রাবি) মাহে রমজান ও গ্রীষ্মকালীন ৪৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি হলেও আবাসিক হলগুলো খোলা রয়েছে। তবে হল খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে ডাইনিং। কয়েকটি হলেও ক্যান্টিন খোলা থাকলেও পর্যাপ্ত কয়েকটি হলের শিক্ষার্থীদের খাবার দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ডাইনিং বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের। তবে হল কর্তৃপক্ষ
বলছে, হলের ডাইনিং পরিচালনার জন্য হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অপ্রতুল থাকায় হল বন্ধ রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭ টি আবাসিক হলেরই ডাইনিং বন্ধ রয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ক্যান্টিন, শাহ মখদুম, মাদার বক্স ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের ক্যান্টিন খোলা রয়েছে। কিন্তু এসব ক্যান্টিনে কয়েকটি হলের শিক্ষার্থীরা এসে পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। এমনকি সেখানে ভিড় লেগে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আশেপাশের বাজারের
হোটেল গুলোতে রমজানের ইফতার ও সেহরি খাচ্ছে।

রমজান উপলক্ষে এসব হোটেল গুলোতে খাবারের দামও তুলনামূলক অনেক বেশি। এমনকি বেশি টাকা দিয়েও মানসম্মত খাবার পাচ্ছেনা না তারা। তাছাড়া ডাইনিং বন্ধ থাকায় অনেকে আবার রান্না করে খেতে হচ্ছে। একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে বেশি অর্থ। ফলে ব্যাপক দূর্ভোগে দিন পার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিশ^বিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু বকর জানান, ‘ডাইনিং বন্ধ থাকায় আমরা ঠিকমতো রমজানের সেহেরী খেতে পারছিনা। ক্যাম্পাসের বাইরে গেলেও অনেক দামে খাবার খেতে হচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পাচ্ছিনা। এদিকে মেয়েদের হলগুলোর ডাইনিং বন্ধ থাকায় তাদেরও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বঙ্গমাতা শেখ

ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাবাসসুম জান্নাত বলেন, দিনের অধিকাংশ সময় এখন রান্না করতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এতে
পড়া লেখা বিঘ্নিত হচ্ছে। যদি ডাইনিং খোলা থাকত তাহলে এমন দূর্ভোগ পড়তে হতো না। শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে হলের ডাইনিং খোলা রাখা উচিত।

এবিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, ‘রমজানে এমনিতেই হলের শিক্ষার্থীরা কম থাকে। কেউ রান্না করে, আবার কেউ ক্যান্টিনে খায়। তাই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় ডাইনিং চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে থেকে মাহে রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন টানা ৪৭ দিনের ছুটি শুরু হয়। এর দু’দিন ডাইনিং চালু থাকার পরে বন্ধ করা হয়। ফলে ডাইনিং বন্ধে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

পিবিএ/এএইচ/ জেডআই

আরও পড়ুন...