রাস্তা নয়, যেন মরণ ফাঁদ, দুর্ভোগ শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের

প্লাবন শুভ,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাচীনতম শিক্ষাঙ্গন সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের (সুজাপুর-মাদিলাহাট) সড়কে ছোট-বড় গর্তে বেহাল দশায় দুর্ভোগের যেনো শেষ নেই। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ হাজার হাজার পথচারীদের। দীর্ঘ তিনবছর যাবৎ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের নজর নেই।

পৌরএলাকার টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে মাদিলাহাট ১০ কিলোমিটার সড়ক। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ ৫ টি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগের সড়ক এটি। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি সংস্থার না করায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে শহরের প্রাচীনতম শিক্ষাঙ্গন সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির সম্মুখসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে গেছে অনেক আগেই। এখন সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দের। ফলে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এই দশা তিন বছর ধরে। সংস্কারের অভাবে সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলছে এঁকেবেঁকে। আবার অনেক জায়গায় গাড়ি চলার সময় আশপাশ ধুলাময় কোথাও কাদাময় হয়ে যাচ্ছে। সে গর্তে যাত্রীবহনকারী ভ্যানসহ তিন চাকার যানবাহনগুলো উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, দীর্ঘ তিনবছর যাবৎ সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন বেহাল দশা কথা জানতে পেয়ে পৌরসভা কর্তৃক গতবছর ৩০ হাজার টাকার রাবিশ ফেলান বর্তমান মেয়র মাহমুদ আলম লিটন।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুজাপুর থেকে মাদিলাহাট পযরন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে চাঁদপাড়া থেকে মাদিলাহাট পর্যন্ত ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটারের কাজ শুরু করা হয়। সুজাপুর থেকে চাঁদপাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাজের জন্য বেশি বরাদ্দ চেয়ে স্টিমিট ঢাকায় পাঠানো হয়।

স্কুলগামী শিক্ষার্থী রুবাইয়া ইসলাম (১৩), আদিব হাসান (১১) ও প্রিয়া রানী (১৫) বলে, আমরা সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের স্কুলের সামনের সড়কে বড় বড় গর্ত রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে পুকুরে পরিণত হয়। এই সড়কে বহু যানবাহন চলাচল করে। সড়কের এমন অবস্থায় আমরা নিরাপদে বাড়ি থেকে স্কুলে কিংবা স্কুল থেকে বাড়ি যেতে পারছি না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার চাই।

এলাকাবাসীরা বলেন, অ্যাম্বুলেনস, শত শত ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। সড়কটিতে কলেজসহ মাধ্যমিক, প্রাইমারী ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এখন সড়কে বিপজ্জনক অবস্থা। সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি চলাচলের একেবারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

ভ্যান চালক মো. বাবু ও ফেরদৌস বলেন, যাত্রীদের গালমন্দ আর গাড়ির ক্ষতি মেনে ওই পথ দিয়েই গাড়ি চালাই। সড়কটি সংস্কার দ্রুত না হলে আমাদেরসহ যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না।

সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের সমানের রাস্তা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়েই বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব দ্রুত রাস্তাটির সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার।

পৌর মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, সুজাপুর সড়কটি এলজিডি প্রকল্পের। তবুও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়ের সামনের খাল-খন্দকে ৩০ হাজার টাকার রাবিশ দিয়েছি।

উপজেলা প্রকৌশলী এফ.এ.এম রায়হানুল ইসলাম বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সুজাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মাদিলাহাট সড়কটি সংস্কার করা হয়। আবারো চাঁদপাড়া থেকে মাদিলাহাট পর্যন্ত ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলছে। সুজাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে চাঁদপাড়া পর্যন্ত সড়কটির স্টিমিট ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্টিমিটটি পাশ হলেই এই এককিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু করা হবে। মোট ৯ কোটি টাকায় ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ হবে।

আরও পড়ুন...