রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে সাংবাদিকরা !

পিবিএ: সাংবাদিকদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজান উল আলম।

সচিব বলেন, বার কাউন্সিলে যেমন রেজিস্ট্রেশন করা হয়, সেরকম সাংবাদিকদেরও রেজিস্ট্রেশন হওয়া দরকার। কারণ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে যখন আবেদন করা হয়, তখন সুপারিশ করার সময় আমাদের সামনে প্রশ্ন আসে কোন সাংবাদিকদের দিচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক প্রেসক্লাব আছে, সেটাও রেজিস্ট্রেশন করা যেতে পারে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক স্বার্থ সুরক্ষা পরিষদ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মিজান উল আলম বলেন, অনলাইন টিভি বা আইপি টিভির জন্য একটা সম্প্রচার আইন ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন হয় এবং ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এটা যদি হয়, তাহলে সম্প্রচার কমিশন গঠিত হবে। এই কমিশন এ বিষয়টি দেখবে। আর দৈনিক পত্র-পত্রিকা প্রেস কাউন্সিল দেখবে। পত্রিকার জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে তারপরও আমি মনে করি, এটা আরও সুনির্দিষ্ট ও মডার্নাইজেশন হওয়া দরকার। স্যোশাল মিডিয়ায় আমিও একজন সাংবাদিক, কারণ আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। তাহলে আমার সংজ্ঞাটা আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এই সরকারের সময়ে সংবাদপত্র সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। না হলে ৩ হাজারের অধিক পত্রিকা প্রকাশ হতো না। এই সরকারের আমলে অনেকগুলো আইন হাতে নেওয়া হয়েছে। যেমন গণমাধ্যমকর্মী আইন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কথা বলা হয়েছিল, যেহেতু বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর মধ্যে শুধুমাত্র সংবাদপত্রের কথা বলা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কথা বলা হয়নি। এই গণমাধ্যমকর্মী বিধি করা হয় তাহলে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও সম্পৃক্ত হয়ে যাবে। সেখানে হয়তোবা ওয়েজবোর্ড আলাদা হতে পারে। সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্য আলাদা। অথবা ভবিষ্যতে যে নতুন নতুন মিডিয়া আসছে যেমন- আইপি টিভি অনলাইন নিউজপোর্টাল, বেতার সবকিছুই হয়তো আলাদা হয়ে যেতে পারে। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়েছে। এটা আন্ডার প্রসেস। ভেটিংয়ে আছে। এটি আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। সেখান থেকে এলে হবে। যেহেতু আমরা বাংলাদেশ শ্রম আইন থেকে বের হয়ে আসছি গণমাধ্যমকর্মী আইন হিসেবে। সেহেতু ওই আইনের সঙ্গে আমাদের কনফিউশন, সাংঘর্ষিকতা বৈরিতা আছে কি-না সেগুলো পরিহার করার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি কাজ করছে।

মিজান উল আলম বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া আছে। এরমধ্যে কতগুলো বিষয় আছে সাংগঠনিক আর কতগুলো আইনগত। সাংগঠনিক বিষয়ে আমার বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। ব্যক্তিগতভাবে মতামত দেওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই। আইনগত দিকগুলো আমি নোট ডাউন করেছি। যদি কোনো অসঙ্গতি থাকে সেগুলো পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবো। তারপরও আমি মনে করি, আপনারা যদি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দেন তাহলে পর্যালোচনা করা হবে বলে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে সিড মানি ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা আছে। এখানে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ কোটি টাকা দিয়েছেন।

সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিটিভির উপ-মহাপরিচালক অনুপ খাস্তগীর, বিএফইউজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাকারিয়া কাজল, বিএফইউজের মহাসচিব সাবান মাহমুদ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহলে হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, সাংবাদিক আমান উদ্দৌলা, অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।

পিবিএ/জেআই

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন