যেসব লিংক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের দখলে

লিংক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের দখলে

পিবিএ ডেস্কঃ ফিশিং লিংক দিয়ে আইডি হ্যাক করা যায় এটা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। যেখানে একজন হ্যাকার একটি ফিশিং লিংক সেন্ড করে যেটা দেখতে আসল সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের মত হলেও আসলে সেটা হ্যাকারের তৈরি সাইট।

এখানে আইডি পাসওয়ার্ড দিলে সেটি চলে যায় হ্যাকারের কাছে। কিন্তু আমরা ৯৮ শতাংশের বেশি মানুষ জানি না যে একটি লিংক দিয়ে আসলে আরও কি কি করা সম্ভব। আজ দেখাব শুধু আইডি পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়া ছাড়া ও কি কি করা সম্ভব।

সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট হ্যাকঃ আমরা প্রতিনিয়ত শুনে থাকি যে হ্যাকার মেসেঞ্জারে কোন একটা লিংক সেন্ড করেছে এবং সেখানে ঢুকতে গেলে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি পাসওয়ার্ড দেওয়া লাগে। আর সেসব লিংকে তথ্য দিলেই সেটা চলে যায় হ্যাকারের কাছে। হ্যাকাররা সাধারণত ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করে সেখানে ফিশিং স্ক্রিপ্ট আপলোড করে আর সেটার লিংক দিয়েই আইডি এক্সেস নেয়। এছাড়াও লিনাক্সের বিভিন্ন স্ক্রিপ্ট দিয়ে এসব হ্যাকিং করে থাকে।

ফ্রন্ট ক্যামেরা হ্যাকঃ কালি লিনাক্স ব্যবহার করে অনেক হ্যাকার এমন লিংক তৈরি করে যেটা দেখতে কোন সাধারণ ওয়েবসাইটের মত কিন্তু এই লিংকে ক্লিক করলে হ্যাকার আপনার ক্যামেরা এক্সেস নিয়ে নিতে পারে এবং অনবরত আপনার ছবি তুলতে পারবে। ফোন কিংবা কম্পিউটার সব কিছুর ফ্রন্ট ক্যামেরা এটার মাধ্যমে হ্যাক করা সম্ভব। আপনি একবারও বুঝতে পারবেন না যে আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ক্যামেরা এখন হ্যাকারের দখলে।

জিপিএস লোকেশন হ্যাকঃ লিনাক্স ব্যবহার করে এমন অনেক সাইট তৈরি করা যায় যে সাইটের লিংকে ভিক্টিমকে ক্লিক করালে তার ওই মুহূর্তের জিপিএস লোকেশন জানা সম্ভব। এমনকি সে মুহূর্তে সে হাঁটছে কিনা বা এক জায়গায় বসে আছে কিনা সেটার তথ্য, ডিভাইসের সকল তথ্য, আইপি ও অন্যান্য সকল তথ্য জানা সম্ভব।

ফোনের বিস্তারিত হ্যাকঃ এমন কিছু লিংক হ্যাকাররা তৈরি করতে পারে যেটা ইচ্ছামত ডোমেইন নাম দিয়ে ভিক্টিমকে পাঠানো যায়। যার মাধ্যমে একজন হ্যাকার ভিক্টিমের ফোনের নাম, মডেল, ভার্সন, আইপি, ফোনের র‍্যাম, রম, স্ক্রিন সাইজ, আইপি প্রভাইডার, ব্রাউজারের তথ্যসহ ফোনের যাবতীয় তথ্য হ্যাকার নিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় একটা সামান্য ভুলে ক্লিক করলে কত বিপত্তি ঘটতে পারে।

সম্পূর্ণ ফোন এক্সেসঃ হ্যাকারদের এমন কিছু স্ক্রিপ্ট আছে যেটা ব্যবহার করে Metasploit এর মাধ্যমে কোন ফেক সফটওয়্যার, পিডিএফ ফাইল বা ইমেজ ফাইল তৈরি করে ভিক্তিমকে পাঠানো হয়। এটাই যদি ভিক্টিম একবার ক্লিক করে তাহলে সিস্টেমে হ্যাকার সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যেতে পারে। এর ফলে কল, ম্যাসেজ, ক্যামেরা থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল কাজ হ্যাকার দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

সুতরাং বুঝতেই পারলাম যে, সামান্য কোন ওয়েবসাইটের লিংক বা কোন ফাইল ডাউনলোড করার লিংক দেখতে অতি সাধারণ মনে হলেও হ্যাকার চাইলে আপনার সকল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

পিবিএ/এমআর

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন