হামরা কি না খেয়া মরে যাম বাহে?

সরকার কি হামাক দেখে না?

পিবিএ,রংপুর: বাবলু মিয়া (৫২) পেশায় একজন রিক্সা চালক। রংপুর মহানগরীর ১২ নং ওয়ার্ডের নজিরের হাট রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা। এক ছেলে এক মে। ছেলে রাজ মিস্ত্রীর কাজ করেন আর মের বিয়ে দিয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারাদেশের ন্যায় রংপুরেও বন্ধ করেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ হোটেল রেস্তোরাঁ। ছয়দিন ধরে শহরে লোক নাই বোল্লেই চলে।

বাাবলু মিয়া বলেন, খালি রিক্সাটা নিয়ে বের হইছোও। পেটের দায়ে বেড়া লাগোছে। পেটের টানে বাইরত রিক্সা নিয়া ঘুড়ি বেড়াচ্ছি। রিক্সা নিয়া না বের হইলে হামাক কায়ো কি খাবার দিয়া আসবে। সকাল থাকি এখন দুপুর প্রর্যন্ত খালি ৮০ টাকা ভারা মারছোং।

হামরাও রোগের ভয় পাই, কি করমো কন? পেটের দায়ে বের হওয়া লাগছে। হামাক কি সরকার দেখছে না? সরকার থাকিয়াও কোনো খাবার পাই না। হামা কি না খেয়া মরে যাম বাহে? এরকম কথা বলছিলেন একজন রিক্সা চালক বাবলু মিয়া (৫২)।

তিনি আরোও বলেন, প্রতিদিনেই রিক্সা নিয়ে বের হই। রিক্সার মাহাযোনকে আগে দিতে হতো ২’শত ৫০টাকা আর এই ৬ দিন থেকে দিতে হয় একশত টাকা করে। এই ছয়দিন থেকে শহরে লোক নাই ভারাও না সেরকম। কোন রকম ১৮০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা ভারা মারি এ দিয়ে কি হামার সংসার চলে। প্রতিদিন রিক্সা চালিয়ে যা অর্থ আসে তা দিয়ে চাল, ডাল কিনে বাড়ি ফেরেন। গত ছয়দিন থেকে কোনো ভাড়া না পেয়ে এভাবেই খালি রিক্সা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাবলু মিয়া।

রিক্সা চালিয়ে সংসার চালান তিনি। এই মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রোমণ রোধে সবকিছু বন্ধ হওয়ায় পরিবারটি এখন খুব কষ্টে জীবন যাপন কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার বিকেল রংপুর মহানগরীর নজরুল চত্তরের সামনে কথা হয় এই রিক্সা চালক বাবলু মিয়ার (৫২) সাথে। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছেন। কোনো কামাই নাই। মানুষ ঘর থেকে বেরায় না। ঘরে খাবার নেই। আজ যে কী খাবেন সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না।

রংপুরের সব দোকানপাট বন্ধ। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। পরিবারের খাবার জোগাতে এসব মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

পিবিএ/মেজবাহুল হিমেল/বিএইচ

আরও পড়ুন...