৭ মাসে কোরআনে হাফেজ মুহাই মিনুল হক

পিবিএ,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মোঃ মুহাই মিনুল (১৫) নামে এক বিষ্ময় বালক মাত্র ৭ মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জানা যায়,মুহাই মিনুল হক কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শালহাটি নোহালী গ্রামের হাছেন আলী এবং আফরোজা বেগম’র সন্তান। সে উপজেলার মশর উদ্দিন নিজাম উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও শহিজন নেছা এতিমখানায় ভর্তি হয়ে মাত্র ৭ মাসের মধ্যে কোরআনের হাফেজ হন।

২৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার সকাল ১০ টায় মাদ্রাসায় গিয়ে মুহাই মিনুল হক’র শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে কথা বলে মুহাই মিনুল’র কৃতিত্বের কথা জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠান’র মোহতামিম হাফেজ মাওলানা ছফিউল্লাহ জানান, মুহাই মিনুল হক গত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। এরপর নিয়মিত পড়াশোনা মাধ্যমে ৭ মাসে পুরো কোরআন শরীফ মুখস্ত করতে সক্ষম হয়। তিনি আরো বলেন, মুহাই মিনুল হক একজন দুঃখি সন্তান। সে অনেক ছোট থাকতেই তার মা পৃথিবী ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। বাবা পুনরায় বিয়ে করে সংসার করছেন। বাবা মায়ের আদর ভালোবাসা থেকে সে বঞ্চিত। বাবা বেচেঁ থেকে তার কোন খোঁজ খবর নেয় না। তাই মুহাই মিনুল হক’র লেখাপড়ার জন্য সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের সহযোগিতাই পারে মুহাই মিনুল’র স্বপ্ন পূরণ করতে।

সহ-কারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মনছুর আলী ও হাফেজ মাওলানা মোজাম্মেল হক বলেন,মুহাই মিনুল হক আমাদের গর্ব। গত ২০ বছরের মধ্যে ওর মতো ছাত্র এই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়নি। মুহাই মিনুল আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করবে। ওর কারণে এই মাদ্রাসার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে ইনশা আল্লাহ। আমরা দোয়া করি মুহাই মিনুল হক যেন একজন বড় আলেম হয়ে ইসলাম এবং মানুষের সেবা করতে পারে।

এদিকে, হাফেজ মুহাই মিনুল হক ইচ্ছা ভবিষ্যতে কোরআনের শিক্ষক ও গবেষক হওয়ার। তার ভাষ্য, আমি পড়ালেখা করে কোরআনের শিক্ষক হতে চাই। সেই সঙ্গে কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে চাই।

উল্লেখ্য যে,২০০০ সালে মশর উদ্দিন নিজাম উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও শহিজন নেছা এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন সামসুল হক। বর্তমানে ১০০ জন ছাত্র এই মাদ্রাসায় পড়ছে।

পিবিএ/আসাদ হোসেন রিফাত/বিএইচ

আরও পড়ুন...