চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ ২০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

মোঃ এমদাদ উল্যাহ,চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা): কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের সেটআপ বৈঠক থেকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানসহ একই দলের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীদের হামলায় এক উপ-পরিদর্শকসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

এদিকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মোঃ শাহজাহান ও সেক্রেটারী ডঃ এ কে এম সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী। মহাসড়কের বাতিসা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ৩নং কালিকাপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে আগামী ১০ ডিসেম্বরের বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করতে উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গোপন বৈঠকে বসে। বিষয়টি পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলায় উপ-পরিদর্শক জুয়েল, সহ উপপরিদর্শক বল্লম মজুমদার ও ৪ কনষ্টেবলসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারী বেলাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এয়াছিন, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাশেম, ঘোলপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল কাদের, জামায়াত নেতা মোঃ ইসমাইল, মোঃ নোমান, আবু তাহের, আবদুর রহিম, ইব্রাহিম খলিল, মোখলেছুর রহমান মজুমদার, সাইফুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, আবুল হাশেম, জাহিদুর রহমান, আহসান উল্যাহ, বেলাল হোসেন, ফজলুল হক ও মাসুমসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে জেলা সহকারি সেক্রেটারি ও উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য ও উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোছাইন, সহ-সেক্রেটারি ইয়াছিন মজুমদারসহ ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। এছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির এডভোকেট মোঃ শাহজাহান ও জেলা সেক্রেটারি ডঃ এ কে এম সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী এক বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২০২৩-২০২৪ সেশনের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ও ঘোলপাশা ইউনিয়নের সেটআপ বৈঠক ও এক দোয়ার অনুষ্ঠান থেকে জামায়াতে ইসলামীর ২০জন নেতাকর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। বুধবার চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সেশনের শুরুতে সেটআপ বৈঠক জামায়াতে ইসলামীর একটি নিয়মিত কাজের অংশ। সেটআপ বৈঠকের মতো নিছক একটি দলীয় প্রোগ্রাম থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার সম্পূর্ণ অন্যায় ও দুঃখজনক। আমরা পুলিশের এই অন্যায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার কোনো দলকেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না। সরকার জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাচ্ছে। জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গ্রেফতার ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জনগণের ন্যায় সংগত অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। এখনো যাবে না ইনশাআল্লাহ। সাথে সাথে জুলুম-নিপীড়ন বন্ধ করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গ্রেফতারকৃত ২০ নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন...